বাইক চুরি রোধে করণীয়

বাইক চুরি রোধে করণীয়

92 / 100

বাইক চুরি রোধে করণীয় – লিখেছেন উৎপল

বাইক চুরি রোধে করণীয় বিষয়সমুহ নিচে আলোচনা করা হলোঃ

১। বাইক চুরি রোধে অবশ্যই বাইকে ভাল কোম্পানির ডিস্ক লক ব্যবহার করতে হবে।  বাইক স্টার্ট করে জোরে টান দিলে এমনিতেই ডিস্ক লক ভেঙ্গে যায়। এক্ষেত্রে ডিস্ক লক ব্যবহার করতে হবে বড়সড় টাইপের। মোবাজ কোম্পানির ডিস্ক লক তালাটা বেশ ভাল সেফটি দেয়। 

২। বাইক ভুলেও নির্জন জায়গায় রেখে যাবেন না। এক্ষেত্রে আপনি যতই লক লাগাননা কেন বাইকে কাজে দিবে না। অনেক সময় দেখা যায় চোর এসে বাইকের মালিক বলে দাবী করে এবং চাবি হারিয়েছে বলে ভ্যানে উঠিয়ে বাইক নিয়ে যায়। এসময় বাইক ভ্যানে তুলতে আসে পাশের সাধারণ জনগণও সাহায্য করে।

৩। বাইক চুরি রোধে সিকিউরিটি এলার্ম অনেক বেশি সহায়তা করে। তাই চেষ্টা করবেন একটি ভাল কোম্পানির সিকিউরিটি এলার্ম বাইকে লাগাতে যেটার অনেকদূর পর্যন্ত রেঞ্জ কাজ করে এমন ।

৪। ইঞ্জিন ইমোবিলাইজার সেন্সর সিস্টেম লাগাতে পারেন বাইকে ।  চোর চাবি দিয়ে বাইক অন করে ফেললেও স্টার্ট করতে পারবে না।

৫। বাইকের গোপন যায়গায় ইঞ্জিন কিল সুইচ লাগাতে পারেন এবং তা অবশ্যই  লুকিয়ে রাখবেন যেন আপনি ছাড়া আর কেউ না জানে। যত ছোট সুইচ ব্যবহার করবেন তত ভাল।

10 14

৬। বাইক চুরি রোধে ভাল কোন কোম্পানির জিপিএস ট্র্যাকার লাগাতে পারেন বাইকে যা ১০০% সঠিক লোকেশন শো করে।বাইক কোন যায়গায় রেখে যাবার পর জিপিএস ট্র্যাকার এক্স্যাক্ট লোকেশন শো করছে কিনা চেক করে দেখবেন।

৭। বাইক চুরি রোধে বাইকে সিকিউরিটি এলার্ম এবং জিপিএস ট্র্যাকার কখনোই পাশাপাশি রাখবেন না দূরত্ব রেখে লাগাবেন। জিপিএস ট্র্যাকার যতটুকু সম্ভব লুকানো থাকে এমন যায়গায় লাগানোর চেষ্টা করবেন যেন অন্য কেউ দেখতে না পায়।

৮। যদি বাইক রেখে কোথাও যেতে হলে তাহলে অবশ্যই লোকজনের সমাগম যেখানে বেশি এমন যায়গায় রাখার চেষ্টা করবেন। সবচাইতে ভাল হয় যদি বাইক কোন ব্যাংক বা এটিএম বুথের সামনে রেখে যান কারণ এগুলোর সামনে সবসময় সিকিউরিটি গার্ড এবং সিসি ক্যামেরা থাকে। সিকিউরিটি গার্ডকে যদি ১০-২০ টাকা বকশিস ধরিয়ে দেন তাহলে ওরা খুব ভালো ভাবে আপনার বাইকের উপর নজর রাখবে। আশে পাশে যদি কোন ব্যাংক বা এটিএম বুথ না থাকবে তাহলে কোন দোকানের সামনে বাইক রাখার চেষ্টা করবেন এবং আপনার বাইকের দিকে একটু নজর রাখার জন্য দোকানদারকে অনুরোধ করবেন । 

৯। বাইক চুরি রোধে বাইকে ভাল কোম্পানির গ্রিপ লক এবং চেইন স্পোকেটে একটা এক্সট্রা লক লাগাতে পারেন। খুব ভাল কাজ করে এই দুইটা জিনিস । 

১০। পার্কিং লট থেকে অহরহ বাইক চুরি হয় । বাইক কোন পার্কিং লটে রেখে যাওয়ার সময় বাইকে অবশ্যই একটা এক্সট্রা লক লাগিয়ে যাবেন কারণ পার্কিং লট থেকে বাইক চুরি হয়ে গেলে  আপনি যত যাই করেন না কেন, সিকিউরিটি গার্ডরা আপনার বাইক দিতে পারবে না।

১১। বাইক রেখে রেস্টুরেন্ট গেলে যদি সম্ভব হয় এমন কোন যায়গায় বাইক রাখবেন যেন আপনি রেস্টুরেন্টে বসে দেখতে পান ।

১২। এক্সট্রা একটা লক লাগাতে পারেন বাইকের তেলের চাবিতে। এটা খুব ভালো কাজ করে। যে সব দোকানগুলোতে বাইকের পার্টস বিক্রি সে সব দোকানগুলোতে তেলের চাবির এই লক পাওয়া যায়।

১৩। বাইক চুরি রোধে আপনার বাইকে ইউনিক ডিজাইন করতে পারেন যাতে অন্য বাইক থেকে খুব সহজেই আপনার বাইক আলাদা করা যায়। এটা বেশ কাজে দেয়। 

১৪। আপনার বাইকের চাবি অন্য কাউকে দিবেন না কারণ বাইকের চাবির ছাপ রেখে পরবর্তীতে সেই ছাপ থেকে চাবি বানানো দুই সেকেন্ডের কাজ। যদি একান্তই আপনার বাইকের চাবি দিতে হয় তবে এক্সট্রা যেসব লক আপনার বাইকে ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলোর চাবি দিবেন না এবং কোনভাবেই বাইকের গোপন ইঞ্জিন লকের সুইচ কোথায় লাগিয়েছেন তা দেখাবেন না।

১৫। রাতের বেলা অপরিচিত রাস্তায় রাইড করবেন না। একান্তই রাইড করতে হলে অবশ্যই সাথে একজনকে রাখবেন অথবা কোন গ্রুপের সাথে রাইড করবেন।

১৭। অপরিচিত কেউ দাড়াতে বললে রাস্তায় দাড়াবেন না। অনেক সময় দেখা যায় ছিনতাইকারীরা বাইক ছিনতাই করার জন্য  মহিলা এবং বাচ্চাদের ব্যবহার করে থাকে। কোন বাচ্চার হাতে কাগজের টুকরায় যদি কোন ঠিকানা লেখা থাকে এবং তাকে ওই ঠিকানায় পৌছে দিতে বলে তবে ভুলেও তা করতে যাবেন না। প্রয়োজনে আসে পাশে পুলিশ বা প্রশাসনের লোক থাকলে তার সাহায্য নিন। 

11 13

১৮। রাতের বেলা বাইকে  কখনও অপরিচিত কাউকে লিফট দিবেন না। বিশেষ করে কোন মহিলাকে ভুলেও লিফট দিবেন না তাহলে বাইক এবং প্রাণ দুইটাই খোয়াতে পারেন। 

১৯। বাইক চুরি রোধে প্রয়োজনে বাইকের টায়ারে লিক প্রুফ জেল ব্যবহার করুন। রাস্তায় অনেক সময় বাইক ছিনতাই করার জন্য ছিনতাইকারীরা পেরেক বিছিয়ে রাখে।

২০। বাইক রাইড করার সময় ফুল ফেস হেলমেট ব্যবহার করুন। প্রয়োজনে দুরের ভ্রমণে বডি আর্মোর ব্যবহার করুন। অনেক সময় বাইক ছিনতাই করার জন্য ছিনতাইকারীরা রাইডারকে শক্ত কিছু দিয়ে আঘাত করে এক্ষেত্রে বাইক না থামিয়ে স্পিড বাড়িয়ে সেই জায়গা থেকে চলে যান। 

২১। রাতের বেলা লুকিয়ে থেকে বাইকের গায়ে কিছু ছুড়ে মারা বাইক চুরির একটা মহা কৌশল। বাইকের কি হয়েছে তা দেখার জন্য রাইডারা বাইক থামায় তখন ছিনতাইকারীরা বাইক ছিনতাই করে।

২২। নির্জন জায়গায় বাইক চলন্ত অবস্থায় জোরে কোন শব্দ হলে বাইক  থামবেন না এবং চেষ্টা করবেন মানুষজন আছে এমন কোন জায়গায় থামিয়ে বাইকের কি হয়েছে তা চেক করবেন।

২৩। রাতের বেলা ভ্রমণ করার সময় বাজার গুলোতে না থামার চেষ্টা করবেন। কারণ আপনি যদি বাজারগুলোতে থামেন তাহলে আপনি বাইক ছিনতাইয়ের সহজে টার্গেটে পরিনত হতে পারেন।


২৪। রাতের বেলা নির্জন কোন রাস্তায় একান্তই একা রাইড করতে হলে কোন হাইওয়ে বাসকে ফলো করে তার পেছন পেছন যাবার চেষ্টা করবেন।

২৫। দূরে কোন যায়গায় ভ্রমণ করতে যাবার সময় ইন্টারনেট থেকে আশে পাশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাম্বার যোগার করে তা সাথে রাখবেন। এক্ষেত্রে হাইওয়ে পুলিশ এবং টুরিস্ট পুলিশ বেশ হেল্পফুল।

২৬। বাইক চুরি রোধে বাইকে অবশ্যই লুকিং গ্লাস ব্যবহার করবেন যাতে পেছনে কোন গাড়ি আপনাকে ফলো করছে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখতে পারেন। যদি বুঝতে পারেন আপনাকে কেউ ফলো করছে তবে নিরাপদ কোন জায়গায় আশ্রয় নিন।  

২৭। যদি দেখেন নির্জন কোন যায়গায়  এক্সিডেন্ট হয়েছে তাহলে সেখানে বাইক থামাবেন না। আজকাল চিনতাই করার জন্য এটাও একটা ফাদ।

২৮। আপনার বাসার পার্কিং এ সিসি ক্যামেরা লাগাতে পারেন।

11 1 1

২৯। বাইকে পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল আছে কিনা তা আগে থেকেই চেক করে নিবেন। রাতের বেলা তেল শেষ হয়ে গেলে বাইক রাস্তায় থেমে গেলে অনেক সময় ছিনতাইয়ের সম্ভাবনা থাকে।

৩০। বাইকের প্রয়োজনীয় সব টুল কিট  সাথেই রাখুন। রাস্তায় বাইক নষ্ট হয়ে গেলে সেইফ কোন যায়গায় পার্ক করুন।

৩১। অপরিচিত যায়গায় যদি আপনার বাইকের সাথে কোন যানবাহনের হাল্কা ধাক্কা বা সংঘর্ষ হয় তবে  তর্ক না করে সেখান থেকে কেটে পড়ুন। অনেক সময় ছিনতাইকারীরা বাইক চুরি করার জন্য ইচ্ছে করেই আপনার সাথে ঝামেলা বাধাবে ।

৩২। বাইক চুরি রোধে বাইকে ছোটখাট পার্টস যেমন এক্সিলারেটর কেবলের তার, এক্সট্রা প্লাগ সবসময় সাথে রাখুন।

৩৩। টেস্ট রাইড দেবার জন্য অপরিচিত বা অল্প পরিচিত কাউকে কখনও বাইক দিবেন না। টেষ্ট রাইড দেবার কথা বলে আপনার বাইক চুরি করে নিয়ে যেতে পারে এমনটা অনেক জায়গা হয়েছে।

৩৪। ভ্রমণে সময় পথে মধ্যে অপরিচিত বা অল্প পরিচিত  কারো দেয়া কিছু খাবেন না। মনের মধ্যে কোন প্রকার সন্দেহের সৃষ্টি হলেই সে ব্যাপারে সাবধান হয়ে যান।

৩৫। বাইক চুরি রোধে রাতের বেলা হাইওয়েতে বাইক রাইডিং এর সময় বডি আর্মর, নি-গার্ড, হ্যান্ড গ্লাভস এবং হেলমেট ব্যবহার করুন।  ছিনতাই করার উদ্দেশ্যে ছিনতাইকারী আপনাকে শারীরিকভাবে আহত করার চেষ্টা করলেও এই সব এক্সেসরিসের কারণে আপনি বেচে যেতে পারেন।

সর্বশেষে বলবো, কখনো যদি আপনি আঁটসাঁটভাবে ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন এবং তাদের কাছে অস্ত্র থাকে তবে আপনার প্রাণের ঝুঁকি না নিয়ে তাদেরকে বাইক  দিয়ে দিন। কারণ বাইকের চাইতে  আপনার জীবনের মুল্য অনেক বেশি, বেঁচে থাকলে হয়ত আবারও বাইক কিনতে পারবেন। বাইক চুরি হয়ে গেলে থানায় জিডি করুন।

ধন্যবাদ   

Join us

Facebook | Linkedin

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *